চাটখিলে সন্ত্রাসী হামলায় ঘর ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগে, আতংকে কয়েকটি পরিবার

মনির হোসেন, নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার রামনারায়নপুর ইউনিয়নে সন্ত্রাসী হামলায় ঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

রবিবার (১০ এপ্রিল) বিকেল ৪ টার সমর দক্ষিণ রামনারায়নপুর রঞ্জন আলী মুন্সী বাড়ীতে সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করেন মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে মনির হোসেন। সাংবাদিকদের জানান গতকাল শনিবার বিকেলে ইউনিয়নের চিহ্নিত সন্ত্রাসী আব্দুল হাকিম ও খোরশেদ আলম সুমন পিকাপে মাটি এনে আমাদের নিজের দখলীয় জমিতে ভরাট করতে দেখে আমার ছেলে সজল তাদের কে বাধা প্রদান করে এতে সন্ত্রাসী হামিদ আর সুমন সজলকে মারধর করে। এই ঘটনা শোনার পর আমি আমার ভাইয়েরা ও ভাতিজাদেরকে নিয়ে ঘটনার স্থলে আসলে তারা চলে যায়। রাত আনুমানিক ৮টা ৩০মিনিটের সময় আমিও বাড়ির লোকজন তারাবির নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে গেলে সন্ত্রাসী আব্দুল হাকিম (৩০) খোরশেদ আলম সুমন (২৯) হঠাৎ করে এলাকার ও বহিরাগত ৬০-৭০জন সন্ত্রাসী দেশীয় তৈরি অস্ত্র নিয়ে এসে আমাদের বাড়ীর আমার ঘর সহ মোট ৮টা ঘরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ভাংচুর ও লুটপাট চালায়।
আমাদের পাঞ্জাগানা মসজিদের ইমামের ঘর ভাঙচুর করলে তিনি বাঁধা দেন সন্ত্রাসীরা তাকে মারধর করে এবং তার স্ত্রীকে সহ বাড়ীর পুরুষ মহিলাদের অকথ্য ভাষা গাল মন্দ করে। ভাংচুরের সময় ভয়ে ঘরে থাকা মহিলারা প্রাণ বাঁচানোর জন্য ছেলে-মেয়েদের কে পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে পাশের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। এই সুযোগে সন্ত্রাসীরা ঘরে আলমারি ভেঙে নগদ ১লক্ষ টাকা, একটি স্বর্নের চেইন, একজোড়া কানের দুল লুট করে নিয়ে যায় এবং ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর ও কুপিয়ে ঘরের টিনের বেড়া জানালা আলমারি টেলিভিশনসহ অন্যান্য মালামাল ক্ষতিকরে, ক্ষতির পরিমান প্রায় ১লক্ষ টাকা।
তিনি আরো বলেন হাকিম ও সুমন আসামি কিছু দিন পূর্বে এলাকার অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে মারধর করে এবং ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি, জামিনে এসে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। তার বিরুদ্ধে থানায় বহু মামলা আছে আমি আমার ও পরিবারের সদস্যদের জানের নিরাপত্তার আশংকায় করতেছি উক্ত ঘটনার ন্যায় বিচারের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদ সদস্য পুলিশ সুপার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও চেয়ারম্যানের নিকট আবেদন করছি।

বাড়ির অন্য যাদের ঘরে হামলা ভাংচুর করেছে তাহারা হলো নুরুল আমিন পিতা সিদ্দিকুল্লা, হারুনুর রশিদ পিতা-মৃত ইব্রাহিম খলিল, জাহাঙ্গীর আলম পিতা ইব্রাহিম খলিল, মোহাম্মদ করিম পিতা মজিবুল হক, সোলমান পিতা সিরাজ, হাসি বেগম পিতা কাশেম।

লিখিত অভিযোগ পাঠকারি বলেন এই ঘটনায় হাকিম ও সুমন সহ ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা কয়েক জনকে তারা পিটিয়ে আহত করে, তারা চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে। আমি প্রশাসন কে অনুরোধ করবো সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

ক্ষতিগ্রস্ত সাবেক ব্যাংকার নুরুল আমিন ও তার স্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, রাতে এশা ও তারাবির নামাজ পড়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং বাড়ির পুরুষ সবাই মসজিদে গিয়ে গেছে এমতাবস্থায় সন্ত্রাসীরা আমার বাড়ির টিনের বাউন্ডারি দেশীয় তৈরি অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে বাউন্ডারি নষ্ট করে‌। আমরা ভয়ে ঘর থেকে বের হইনি। সন্ত্রাসীদের ভয়ে নিরাপত্তা হিনতা ভুগতেছি।

ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল রানা বলেন, সম্পত্তি নিয়ে যাদের সাথে সমস্যা তাদের ক্ষতি করলে একটা কথা ছিল। কিন্তু নারী নির্যাতিত মামলার কারা ভোগকারী আসামি সন্ত্রাসী অন্য উপজেলা থেকে অনেক ভাড়া টিয়া লোকজন নিয়ে এসে রঞ্জন আলী মুন্সী বাড়ীর ৮টা বসত ঘরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রায় এক লক্ষ টাকার স্বর্নালংকার লুটপাট করে নিয়ে যায় এবং লক্ষ টাকার আসবাবপত্র মানুষের বসত ঘর সহ জানমালের ব্যাপক ক্ষতি করে, এটা আমরা এলাকা বাসি মেনে নিতে পারি না। আমি পুলিশ কে অনুরোধ করবো সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলো আব্দুস সামাদ, শামছুল হুদা, শাকিল, জাহাঙ্গীর আলম, শিমু আক্তার, হাসিনা আক্তার, মোহাম্মদ আলী, মনির হোসেন, মুন্নি আক্তার, রহমত উল্লাহ, আবদুল্লাহ, নুর নবী, জিসান, রাবেয়া খাতুন সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।