ছিনতাই, অনিয়মের অভিযোগ, পুলিশকে ছদ্মবেশে শহরের রাস্তায় টহলদারির নির্দেশ

রাতপথে টহলরত পুলিশকর্মীদের কাজে নজর রাখতে সিসি ক্যামেরা ছিল‌ই। এ বার তাঁদের গতিবিধি মাপতে উচ্চপদস্থ কর্তাদের সাধারণ গাড়িতে চড়ে রাতে গোপনে টহল দিতে নির্দেশ দিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার। শহরে পর পর ছিনতাই এবং টহলদারি ভ্যানের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগে যথেষ্ট অসন্তুষ্ট সিপি। যার আঁচ পাওয়া গিয়েছিল দিন কয়েক আগে হওয়া মাসিক ভার্চুয়াল অপরাধ দমন বৈঠকে। তবে সাম্প্রতিক অতীতে ছদ্মবেশে টহল দেওয়ার এমন নির্দেশিকা আদৌ জারি হয়েছিল কি না, মনে করতে পারছেন না লালবাজারের কর্তারা।

রাতের পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে এবং রাস্তায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের উপরে নজর রাখতে ডেপুটি কমিশনার থেকে শুরু করে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, সবাইকে গোপনে এলাকা ঘুরে পরিস্থিতি লক্ষ রাখতে বলা হয়েছে। বাহিনীর কেউ যাতে আগেভাগে সেই খবর জানতে না পারেন, তার জন্য কর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও বলা হয়েছে। এমনকি, সে কাজে নির্দিষ্ট গাড়ির বদলে অন্য যান ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। ঠিক যেমন ভাবে গত রবিবার স্বয়ং সিপি প্রাতর্ভ্রমণের পোশাকে সাইকেলে বেরিয়ে পড়েছিলেন ময়দান ও সংলগ্ন এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখতে। অর্থাৎ, টহলরত বাহিনীকে আগাম সতর্ক হতে না দেওয়ার জন্যই এত গোপনীয়তা।

প্রজাদের দুরবস্থার কথা জানতে সম্রাট-রাজার শাসনকালে পুরনো ভারতবর্ষ সাক্ষী থেকেছে শাসক বা তাঁর অনুচরের ছদ্মবেশে এমন শহর পরিক্রমার। যা নিয়ে ইতিহাসের পাতায় ছড়িয়ে রয়েছে একাধিক গল্পও। এ বার সে পথেই হাঁটছে লালবাজার।

রাতপথে শহরের রাস্তায় ডিভিশন এবং থানার টহলদারি ভ্যান থাকে। তাদের হাতেই থাকে রাতের শহরের নিরাপত্তা। কিন্তু ডিভিশনের সেই টহলদারি আরসিপি ভ্যানের বিরুদ্ধে মাঝেমধ্যেই অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। কিছু দিন আগে কাঁকুড়গাছিতে একটি আরসিপি ভ্যানের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ উঠেছিল। এ বার থেকে পদস্থ পুলিশকর্তাদের হঠাৎ পরিদর্শনে নিচুতলার কর্মীরাও সতর্ক থাকবেন। ফলে অনিয়মের সংখ্যা কমবে বলে আশা লালবাজারের‌।
বিভিন্ন থানার ওসি এবং পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের নিয়ে গত শনিবার হওয়া অপরাধ দমন বৈঠকেও ওই বিষয়ে জোর দেন পুলিশ কমিশনার সৌমেন মিত্র। সেখানে শহরের নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন নির্দেশ দেন তিনি। বিশেষ করে ভোরে এবং রাতে নিরাপত্তা ছিল তাঁর মূল আলোচ্য বিষয়। পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে কমিশনার নির্দেশ দেন, রাতের টহলদারি ভ্যানগুলিকে সিসি ক্যামেরার নীচে দাঁড়াতে হবে। সেখানে দাঁড়িয়েই রাতের গাড়ির তল্লাশি করতে হবে। সে ক্ষেত্রে কন্ট্রোল রুম থেকে ওই কাজে নজর রাখতে পারবে লালবাজার।

এর আগে ২০১৬ সালেও রাতে পুলিশের তোলাবাজি ঠেকাতে টহলদারি ভ্যানকে সিসি ক্যামেরার নীচে দাঁড়িয়ে গাড়ি তল্লাশি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তার পরে পুলিশের বিরুদ্ধে রাতে ওঠা অভিযোগ অনেকটাই কমেছিল বলে দাবি লালবাজারের।

সূত্র : আনন্দবাজার অনলাইন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *