নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকাঃ ঢাকা ওয়াসার উপপ্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী সাবেক ছাত্রলীগের নেতা এবং আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হয়েও বর্তমানে ওয়াসায় রয়েছেন বহাল তবিয়তে
তিনি আওয়ামীলীগের মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের ভাগ্নি জামাই। এই পরিচয় দিয়ে আওয়ামী লীগের আমলে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করার পরেও বিএনপির আমলেও তিনি জটিল ও কুটিল বুদ্ধি এবং অবৈধ পথে অর্জিত অর্থ ব্যবহার করে ঢাকা ওয়াসা সিবিএ’র সভাপতির বেয়াই ও উপদেষ্টা পদপ্রাপ্ত হয়েছেন।
দুর্নীতির টাকায় তিনি এতই অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন যে তার কাছে কোন কিছুই আর এখন অসাধ্য নয়। আর এই জন্য সম্প্রতি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কর্তৃক তার দুর্নীতি খতিয়ে দেখার জন্য ঢাকা ওয়াসা ম্যানেজমেন্ট বরাবর পত্রের মাধ্যমে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ রাজস্ব জোন-৯ এর উপ-প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে বদলির আদেশটি বড় অংকের লেনদেনের মাধ্যমে হলেও এখন আর এই দায়িত্বটি তার পছন্দ হচ্ছে না। অন্য কোন ভাল রাজস্ব জোনে পোস্টিং নেওয়ার জন্য আবারো তিনি মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
আওয়ামীলীগের দোসর হলেও ঢাকা ওয়াসায় তার প্রভাবে দিশেহারা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব লুৎফর রহমান বাঘা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছেন। তিনি রাজনৈতিক জীবনে ১৯৯১ সালে মূলাদি উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। উক্ত আহবায়ক কমিটির সদস্য সংখ্যা ছিল মোট ৯ জন। এডভোকেট আব্দুল বারী এবং আব্দুল মালেক বারির নেতৃত্বাধীন মূলাদি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ছিলেন ঢাকা ওয়াসার উপ-প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ সিদ্দিকীর বাবা লুৎফর রহমান বাঘা। তার মা সালমা বেগম মুলাদী পৌরসভার আওয়ামী লীগ সমর্থিত নারী কাউন্সিলর ছিলেন।
তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন ছাত্রলীগের রাজনীতি করতেন। আওয়ামী পরিবারের সন্তান হওয়ার কারণে আওয়ামী লীগের আমলেও ঢাকা ওয়াসায় ছিলেন বহাল তবিয়তে। ঢাকা ওয়াসার রাজস্ব ফাকি দিয়ে প্রতিটি রাজস্ব জোনে থাকাকালীন সময়ে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন।
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার মত অভিজাত এলাকায় নিজের নামে জমি ক্রয় করা সহ একাধিক ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। বসুন্ধরায় তিনি যে বাসায় থাকেন সেই বাসার ঠিকানা প্লট-১৪৫, রোড-৭, ব্লক- আই- বসুন্ধরা, ঢাকা। এছাড়াও তার গ্রামের বাড়ি বরিশাল মূলাদি উপজেলায় তার বাবা, মা এবং স্ত্রীর নামে বেনামে অনেক সম্পদ ক্রয় করেছেন।
এ ব্যাপারে তানভীর আহমেদ সিদ্দিকীর সাথে কয়েকদফা যোগাযোগ করা হলেও তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।




