ফেনীতে ছেলের বিরুদ্ধে মায়ের মামলা

কামরুল হাসান নিরব, ফেনীঃ ফেনী সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়নের মহদিয়া গ্রামের মাজেদা খাতুন নামে এক দরিদ্র অসহায় মহিলাকে উনার নিজ পুত্র নুরুল ইসলাম কর্তৃক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এই নিয়ে ফেনী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার ধারা ৩২৪/৩২৫/৩৩০/৩৪৭/৪২০/৪৬৮/৩০২/৪৭১। অত্র মামলার বাদী মাজেদা খাতুন একজন সহজ সরল, বয়োবৃদ্ধা গ্রাম্য মহিলা হয়।

পক্ষান্তরে আসামী পক্ষ সন্ত্রাসী, পরকিত্ব লোভী ও অপরের সম্পদ আত্মসাৎকারী। তারা দাঙ্গা হাঙ্গামা ভালোবাসে। আসামী নুরুল ইসলাম বাদী মাজেদা খাতুন’র পুত্র হয়,২নং নুরুল আলম ১নং আসামী নুরুল ইসলাম’র সকল অপকর্মের সহযোগী করে। মামলার বাদী উল্লেখ করেন ১৮/০৭/২০ ইং মাস্টার পাড়া লমী হাজারী বাড়ি সংলগ্ন আসামী নুরুল ইসলাম’র শ্বশুর বাড়িতে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে মাজেদার স্বামী তথ্যমতে নুরুল ইসলাম তার পিতাকে মহদিয়া বাড়ী হইতে মাষ্টার পাড়াস্থ লমী হাজারী রোড়ে অবস্থিত শ্বশুর বাড়ীতে নিয়া আসেন এবং ঐ দিন ঘটনার সময় মাজেদা খাতুনের স্বামীর মালিকীয় দখলীয় নাজিরপুর মৌজার সাবেক ২৫০ নং খতিয়ান, বি.এস ২১২ নং খতিয়ানের সাবেক ৮৯৮ ,বি.এস ২০৩৬ দাগের ৩১ ডিং ভূমি তাহাকে হেবা দলিল করিয়া দেওয়ার জন্য আগে থেকে প্রস্তুত করে হেবা দলিলে স্বাক্ষর করিয়া দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।

মাজেদার স্বামী আসামী নুরুল ইসলামকে একক ভাবে কোন সম্পত্তি হেবা করে দিতে অস্বীকৃতি জানালে নুরুল ইসলাম ও নুরুল আলম মাজেদার স্বামী এবং নুরুল ইসলাম’র স্বীয় পিতাকে কিলঘুষি লাথি মারতে থাকে। বেদম মারধর শেষে গলায় চুরি ধরিয়া হত্যার হুমকি দিয়া জোর পূর্বক হেবা দলিলে টিপ নেয় এবং মাজেদার স্বামীকে ১টি কক্ষে আটক করিয়া রাখে। এরপর ১৯/০৭/২০ ইং মতিগঞ্জের সাব রেজিষ্টি অফিসের সামনে উভয় আসামী মাজেদার স্বামীকে হত্যার হুমকি দেয়।

মতিগঞ্জ সাব রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে থাম বহিতে টিপ দিতে বাধ্য করে এবং পুনরায় ফেনী মাষ্টার পাড়াস্থ লমী হাজারী রোডের শ্বশুর বাড়ীতে নিয়ে এসে ১টি কক্ষে আটক করে রাখে। যদিও মাজেদার স্বামী কোথাও কখনো টিপ সহি দেন নাই, তিনি সব সময় নিজ নামই স্বাক্ষরই করিতেন। মাজেদা ও স্বাক্ষীগন (মনোয়ারা বেগম,জোৎস্না আরা বেগম ও সবুজ) বহুবার ১নং আসামীর মোবাইলে ফোন করে মাজেদার স্বামীর কথা জিজ্ঞাসা করলে নুরুল ইসলাম কৌশলে মাজেদার স্বামীর সাথে যোগাযোগ করা হতে বিরত রাখে এবং পুনরায় ডাক্তার দেখিয়ে ৫/৬দিন পর বাড়ীতে নিয়ে যাবে বলে আশ্বস্থ করলে সহজ সরল মাজেদা ও স্বাক্ষীগণ নুরুল ইসলাম’র কথা বিশ্বাস করে।

মাজেদার স্বামী, বাড়ীতে চলে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করলে এবং সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বললে উভয় আসামী মাজেদার স্বামীকে আটক করে এই বিষয়ে কোন উচ্চবাক্য না করার জন্য কিলঘুষি থাপ্পর সহ মারধর অব্যাহত রাখে। আসামীদের এই অত্যাচার নির্যাতন অপমানে মাজেদার স্বামী ২২ তারিখ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

মাজেদার স্বামীকে ঐ দিন সন্ধ্যা ৬টায় নিজ বাড়ীতে মৃত অবস্থায় নিয়ে গেলে স্বাক্ষীগণ নুরুল ইসলাম’র পিতার শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে মর্মে মাজেদাকে বললে উনি স্বামীর শরীরে আঘাতের চিহ্ন সম্পর্কে উনার ছেলে জিজ্ঞাসা করিলে খাট থেকে পড়ে আঘাত পেয়েছে বলেন এবং এই বিষয়ে চুপ থাকতে বাধ্য করেন। মাজেদা ইদানিং স্বাক্ষীগণ মারফত জানিতে পারে নুরুল ইসলাম পূর্বে বর্ণিত জরপুর মৌজার ৩১ ডিং ভূমি ২নং আসামীর নিকট বিক্রি করেছে এবং নুরুল আলম উক্ত ভূমি দখল করতে যান।

মাজেদা তার পুত্রকে সম্পত্তি ফিরাইয়া দিতে বলেন। ৪র্থ ঘটনার তারিখ ও সময়ে স্বাক্ষীগণের উপস্থিতিতে ১/২নং আসামী আত্মসাৎ কৃত সম্পত্তি অস্বীকার করে। মাজেদা শারিরীক ভাবে অসুস্থ থাকায় এবং বাদীনির অন্য সন্তান ও স্বাক্ষীগণ কে মাজেদার পুত্র নুরুল ইসলাম সন্ত্রাসের ভয়ে চুপ থাকতে বাধ্য হয়।