ফেসবুক ছবিটি দিয়ে স্মৃতিচারণ করেন অমলেন্দু সরকার

কলকাতা প্রবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা অমলেন্দু সরকার স্মৃতিচারণ করে বলেছেন, আজ এই ছবির দিকে তাকালে মনে পড়ে যায় সেই ১৬ ডিসেম্বর ১৯৯৬ সালের এক শীতের দিনের কথা, দুই মুক্তিযোদ্ধা সাদরে করমর্দন করছি, চট্টগ্রাম মুক্তিযোদ্ধার পবিত্র মঞ্চে। মুক্তিযোদ্ধা দানু ভাইয়ের একটা পরিচয় আছে সেটা হলো চট্টলবীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন চৌধুরীর অন্তরঙ্গ বন্ধু।

আরেকটা পরিচয় হলো অসম্ভব পরোপকারী ও জনদরদি মুক্তিযোদ্ধা। দানু ভাইয়ের আর একজন অন্তরঙ্গ বন্ধু পিনাকী দাশগুপ্ত আজও জীবন্ত সাক্ষী হিসেবে আছেন।
দানু ভাইয়ের একটা ঘটনা মনে পড়ে, তখন খালেকুজ্জামান ভাই ভীষণ অসুস্থ ছিলেন, তিনি উনার সুচিকিৎসার পরামর্শের জন্য আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং সেই মতো ভারতবর্ষে চিকিৎসার জন্য পাঠায় এবং নিয়ম করে সারাদিনে অন্তত তিনবার খোঁজ খবর নিতেন এবং উদ্বেগ প্রকাশ করতেন। আজ উনার কথা খুব মনে পড়ছে আর কেন জানি না নিজের অজান্তেই চোখের কোণে আসছে জল। বহুবিধ জনহিতকর কর্মকাণ্ডের সাক্ষী থাকতে পেরেছিলাম আমি।

অমলেন্দু সরকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছবিটি দিয়ে এ স্মৃতিচারণ করেন।

তিনি লিখেছেন, মহিউদ্দিন ভাই ও দানু ভাই আমাকে বলতেন ‘দেশকে মুক্ত করতে হবে- অমল! শুধু পাকিস্তানিদের থেকে মুক্তি নয়, অশিক্ষা থেকে, দারিদ্র্য থেকে, সাম্প্রদায়িকতা থেকে। এ রকম গভীর চিন্তাশীল জনদরদি বন্ধুবৎসল দেশপ্রেমিক আজ বড়ই দুর্লভ।

আজ উনারা আমাদের মধ্যে নেই, দিকশূন্য পুরে বিলীন হয়েছে, শুধু উনারা নয় মুক্তিযোদ্ধাদের বিদায়ের তালিকা দীর্ঘায়িত হয়েছে, কার কথা ছেড়ে কার কথা বলবো- খালেকুজ্জামান, সন্তোষ ধর, কামাল ভাই, সুলতানুল কবির চৌধুরী, রফিক ভাই, ইউসুফ ভাই, রুপম দাশগুপ্ত ও বিপিন বড়ুয়াসহ আরও অনেকে। কালের অমোঘ নিয়মে তালিকা আরোও দীর্ঘায়িত হবে। উনাদের স্মৃতিচারণ করতে বসলে শুধু বুক ফাটা কান্না আর কিছুক্ষণের জন্য নিজের স্বাভাবিক কর্মে ছেদ পড়ে!

সারা পৃথিবীতে অনেক মুক্তিযোদ্ধা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন যারা সরকার থেকে কোনো ভাতা বা সম্মানী নেন না। কবির কথায় বললে বলতে হয়-
‘জানি, আমার জন্যে কেউ প্রতীক্ষা ক’রে নেই
মালায় আর পতাকায়, প্রদীপে আর মঙ্গলঘটে;
জানি, সম্বর্ধনা রটবে না লোক মুখে,
মিলিত খুসিতে মিলবে না বীরত্বের পুরস্কার।
তবু, একটি হৃদয় নেচে উঠবে আমার আবির্ভাবে
সে তোমার হৃদয়। ’

কিন্তু দুঃখের বিষয় বাংলাদেশের দূতাবাসগুলো তাদের মূল্যায়ন করে না, সামান্য খোঁজখবর টুকুও রাখে না। এমনকি দেশের জাতীয় অনুষ্ঠানগুলোতে ন্যূনতম আমন্ত্রণটুকুও করে না। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও তাদের মানবিক মূল্যায়ন হয়নি। তাই এ ধরনের অপমানজনক মানসিকতার বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে অনুরোধ জানাই।
আজকের বাংলাদেশ২৪ ডেস্ক