বহিরাগতদের দখলে ফেনীতে নির্বাচন প্রক্রিয়া পন্ড গ্রেফতার ৩৫,আহত ১১

কামরুল হাসান নিরব, ফেনীঃ

৪র্থ ধাপে অনুষ্ঠিত ফেনীতে নির্বাচনে বহিরাগতদের আক্রমণে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ধংব্বসের মুখে পড়ে।এখানে অধিকাংশ ভোটারই ভোট দিতে পারেন নি।এক্ষেত্রে ভোট গ্রহন হয়েছে সর্বোচ্চ ২৭%,বাকি সব ভোটই ফেনীর বিভিন্ন স্থান হতে আগতরা সহিংসতা সৃষ্টি করে, ধরপাকড় ও মারধর করে ভোটারদের কেন্দ্র থেকে বিতাড়িত করে।

ফেনীর সোনাগাজিতে ১নং চরমজলিশপুর ইউনিয়নে বিভিন্ন কেন্দ্রে পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, নারীদের দীর্ঘ লাইনে কৃত্রিমতা সৃষ্টি করে বহিরাগত বিভিন্ন প্রার্থীর সমর্থক রা।আবার অনেক কেন্দ্রে প্রার্থীর এজেন্টদের কে সরাসরি সিল মারতে দেখা যায়। ২ নং বগাদানা ইউনিয়নে মান্ধারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নৌকার প্রার্থী আলাউদ্দিন বাবুলের সাদা গেঞ্জি পরিহিত সমর্থকরা মিনিট ১০ পর পর দল বদল করে করে লাইনে দাড়িয়ে থাকে।

১৫-২১ বছর বয়সী ছাগলনাইয়া ও ফুলগাজির বিভিন্ন ইউনিয়নের ছেলেদের এখানে প্রত্যক্ষ করা যায়। বগাদানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ করেন মোটরসাইকেল প্রতীকের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী শিপন।

অপর দিকে লাঙ্গল প্রতীকের আরেক প্রার্থী দাবি করেন নির্বাচনে তার ভোটারদের কেন্দ্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা করেছে বাবুলের সমর্থকরা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মুঠোফোনের কল কেটে দেন আলাউদ্দিন বাবুল। অপরদিকে চরচান্দিয়া ইউনিয়নের চরসাহাবিকারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে বহিরাগতদের এলোপাতাড়ি গুলিতে মাতৃদুগ্ধ শিশু সহ আহত হয়েছে ১১ জন,তন্মধ্যে আশঙ্কাজনক ১ জনকে সোনাগাজি সদর হাসপাতাল থেকে চট্টগ্রাম পাঠানো হয়েছে। উল্লেখ্য,সজিব নামে এক সদস্য পদপ্রার্থীর সমর্থকরা স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা পরিচালনা করেন বলে জানান স্থানীয়রা।

এদিকে জয়লস্কর ইউনিয়নে সম্পূর্ন ভোট ব্যবস্থাকে জালিয়াতি ও কারচুপি আখ্যা দিয়ে ভোট বর্জন করেছেন ৩ বারের ফেনী প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম। তার ভাষ্যমতে,বহিরাগতদের মাধ্যমে ভোটারদের কেন্দ্র থেকে বিতাড়িত করে নৌকার প্রার্থী মামুনুর রশিদ মিলন সমর্থকরা। এছাড়াও অন্যান্য সকল কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি প্রত্যক্ষ হলেও ভোট দিতে না পেরে বাড়ি ফিরতে হয়েছে অনেককেই। তবে পুরুষ ভোটার থেকে নারী ভোটারদের সংখ্যা ছিল অধিক।