অনিশ্চয়তার খেলা ক্রিকেট নিশ্চয়তা দেওয়ার ঝুঁকি

স্টিভ স্মিথের শতক নিয়ে তিনি কীভাবে এত নিশ্চিত হলেন, কে জানে! কিন্তু অনিশ্চয়তার খেলা ক্রিকেটে এমন নিশ্চয়তা দেওয়ার ঝুঁকিটা যে কী রকম, সেটি এবার হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার গাস ওরল্যান্ড।

স্মিথের সেঞ্চুরির নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন গাস ওরল্যান্ড। কিন্তু অ্যাডিলেডে অ্যাশেজে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনে গতকাল ৯৩ রান করেই আউট হন স্মিথ। নিজের ভবিষ্যদ্বাণী এভাবে ভুল প্রমাণিত হওয়ার পর এখন রীতিমতো ‘কুফা’ অপবাদ গায়ে মাখতে হচ্ছে ওরল্যান্ডকে।

এভাবে স্মিথের ‘সেঞ্চুরি নষ্ট করার জন্য’ অবশ্য ক্ষমা চেয়েছেন ওরল্যান্ড, তাতে যদি কিছুটা অপবাদ থেকে মুক্তি মেলে!

অ্যাডিলেডে কাল যখন স্মিথ সেঞ্চুরির কাছাকাছি, অস্ট্রেলিয়ার ট্রিপল এম রেডিওতে ধারাভাষ্য দিতে থাকা ওরল্যান্ড ভবিষ্যদ্বাণীটা করেন। ধারাভাষ্যে সঙ্গী ড্যান জিন্নানেকে উদ্দেশ করে ওরল্যান্ড তখন বলেছিলেন, ‘আর ২০ মিনিটের মধ্যে স্মিথের সেঞ্চুরির কথা ঘোষণা করবেন ড্যান জিন্নানে।’ আত্মবিশ্বাসের বলিহারি!

ধারাভাষ্য বক্সে থাকা জিন্নানে অবশ্য ওরল্যান্ডের এই ভবিষ্যদ্বাণীতে মনে জোর পাননি। এমন কথার জেরে সবকিছু গুবলেট পাকিয়ে যাওয়ারই আশঙ্কা বরং করছিলেন জিন্নানে। ওরল্যান্ডকে উদ্দেশ করে তাঁর পাল্টা মন্তব্য, ‘ধুর, কুফা লাগিয়ো না।’ কিন্তু ওরল্যান্ডকে তখন থামায় কে! অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়েও এক অবিশ্বাস্য আত্মবিশ্বাস যেন ভর করে তাঁর মধ্যে।

জিন্নানের সতর্কতাবাণীতেও সে আত্মবিশ্বাস টলল না। ‘অপরাধে’র মাত্রা আরও বাড়িয়েই দিলেন ওরল্যান্ড, ‘আমি কুফা লাগাচ্ছি না! স্টিভ স্মিথ সেঞ্চুরি পাবেই, আর তুমি সেটি ধারাভাষ্যে বলবে, দেখে নিয়ো।

আর হয়েছে দেখা! ৯৩ রানে জেমস অ্যান্ডারসনের বলে এলবিডব্লু হয়ে ফিরেছেন স্মিথ। রিভিউ নিয়েও সিদ্ধান্ত বদলানো হলো না এই টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করা স্মিথের। অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান রিভিউ নিতেই অবশ্য ওরল্যান্ডকে পাল্টা ফোড়ন কাটেন জিন্নানে, ‘এটা যদি আউট হয়, তাহলে ওরল্যান্ডকে প্রথম ফিরতি প্লেনেই সিডনি (ওরল্যান্ডের শহর) পাঠিয়ে দেওয়া উচিত।’

শেষ পর্যন্ত সত্যি সত্যি সিডনিতে পাঠানো হয়েছে কি না বা এ রকম কোনো পরিকল্পনা করা হয়েছে কি না, তা এই প্রতিবেদন লেখার সময় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ওরল্যান্ড ওভাবে আত্মবিশ্বাস নিয়ে ‘কুফা’ লাগানোর জন্য পরে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইলেন। দিনের খেলার শেষ ভাগে ধারাভাষ্যে এসে ওরল্যান্ড উল্টো নিজেকেই বললেন, ‘নির্বোধ’, গাধা।

স্মিথ তাঁর কারণেই আউট হয়েছেন, এমন জানিয়ে তাঁর ক্ষমাপ্রার্থনা, ‘জাতীয় রেডিওতে এসে আমি আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইছি। স্টিভ স্মিথকে আউট করানোর জন্য ক্ষমা চাই। আমি একটা গাধা, নির্বোধ। আমাকে ক্ষমা করে দাও, অস্ট্রেলিয়া!’

ওরল্যান্ডের কথার কারণেই যে স্মিথ আউট হননি, সেটা তো তিনি জানেনই। জানেন জিন্নানেও। জানেন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটপ্রেমীরাও। স্টিভ স্মিথের আউট নিয়ে কুফা লাগানো তো আর কোনো ফৌজদারি অপরাধ হয়ে যায়নি। পুরো ব্যাপারই যে হালকা মেজাজের কৌতুক, তা বুঝতে সমস্যা হয় না।

স্মিথ সেঞ্চুরি না পেলেও কাল তাতে অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার তেমন ক্ষতিবৃদ্ধি হয়নি। আগের দিন ডেভিড ওয়ার্নার আউট হয়েছিলেন ৯৫ রান করে, কাল স্মিথ সেঞ্চুরির হাতছোঁয়া দূরত্ব থেকে ফিরলেও মারনাস লাবুশেন ঠিকই সেঞ্চুরি (১০৩) তুলে নিয়েছেন। এর সঙ্গে উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান অ্যালেক্স ক্যারির ৫১ রান মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়া ৯ উইকেটে ৪৭৩ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। জবাবে ১২ রানের মধ্যেই দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হাসিব হামিদ ও ররি বার্নসের উইকেট হারায় ইংল্যান্ড।

কিন্তু তিনে নামা ডেভিড ম্যালান ও অধিনায়ক জো রুটের ব্যাটে এরপর ঘুরে দাঁড়িয়েছে ইংলিশরা। ২ উইকেটে ১৭ রান নিয়ে কাল দ্বিতীয় দিন শেষ করেছিল ইংল্যান্ড, আজ তৃতীয় দিনে শুরুটা দারুণ করেছিলেন ম্যালান-রুট। তৃতীয় উইকেটে দুজনের জুটিতে আসে ১৩৮ রান।

এই প্রতিবেদন লেখার সময় ইংল্যান্ডের রান ৩ উইকেটে ১৫০। রুট কিছুক্ষণ আগেই ক্যামেরন গ্রিনের বলে স্মিথের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়েছেন, করেছেন ৬২ রান। তবে ম্যালান অপরাজিত ৭৩ রানে। ক্রিজে নতুন ব্যাটসম্যান বেন স্টোকস (০*)।