নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোষর, নামধারী সাংবাদিক মো. হাবিবুর রহমান হাবিব ওরফে শাহ্ হাবিব রহমানের নেতৃত্বে চলছে চাঁদাবাজি। তার চাঁদবাজির কারনে বর্তমানে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে সরকারী-বেসরকারী দপ্তর গুলো।
কথিত সাংবাদিক হাবিবুর রহমান হাবিব ওরফে শাহ্ হাবিব রহমান দৈনিক প্রথম প্রহর পত্রিকার নাম ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত তার এ চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে। যার কারনে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সরকারী ও বেসরকারী দপ্তর গুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
অভিযোগ রয়েছে দৈনিক প্রথম প্রহর পত্রিকার সম্পাদক মো. নাজমুল ইসলাম। পত্রিকা কর্তৃপক্ষের মতামত অনুসারে প্রকাশক বাবর আলী পত্রিকাটি হস্তান্তর করেন মো. নাজমুল নামের এক ব্যক্তির নিকট। সেই থেকে মো. নাজমুল ইসলাম সম্পাদক হিসাবে পত্রিকাটি নিয়মিত প্রকাশ করে আসছে।
অভিযোগ রয়েছে সরকারি দপ্তর গুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে ভয় দেখানোর জন্য এবং নিয়মিত চাঁদা আদায়ের জন্য হাবিবুর রহমান হাবিব ওরফে শাহ্ হাবিব রহমান নামের ওই কথিত সাংবাদিক মাঝে মধ্যে অবৈধ ও অনিয়ম ভাবে ওই পত্রিকাটি বাহির করে থাকে। যেটা সংবাদপত্রের জন্য বদনাম ও বড় রকমের হুমকি স্বরুপ ও সম্পুর্ন আইন বিরোধী।
একাধিক সুত্রের দাবী, রাজউকের মতিঝিল, মহাখালী, উত্তরার অফিস গুলোসহ আগারগাঁও এলজিইডির প্রধান কার্যালয়, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, সড়ক ভবন, তেজগাঁও রেজিষ্ট্রেশন কমপ্লেক্স এবং দিলকুশা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবী করে থাকে কথিত ও নামধারী সাংবাদিক হাবিবুর রহমান হাবিব ওরফে শাহ্ হাবিব রহমান।
এছাড়াও কথিত সাংবাদিক হাবিবুর রহমান ওরফে শাহ্ হাবিব রহমানের সাথে চলাফেরা করা কিছু নামধারী ও কথিত সাংবাদিক বিভিন্ন দপ্তর থেকে চাঁদা তোলার ব্যাপারে তাকে বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করে থাকে। দিন শেষে সেই টাকা ভাগাভাগি হয় মতিঝিল রাজউকের চায়ের গলিতে বসে। কথিত সাংবাদিক হাবিবুর রহমান ওরফে শাহ্ হাবিব রহমানকে যারা সহযোগিতা করে আসছে তাদের নামেও সকল প্রমানাদি সহ আগামী সংখ্যায় তা ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশ করা হবে।
কথিত সাংবাদিক সাংবাদিক হাবিবুর রহমান ওরফে শাহ্ হাবিব রহমানের রাজনৈতিক পরিচয়ঃ জীবনে কোন দিন স্কুলের বারান্দায় পা রাখার সৌভাগ্য না হলেও এক সময় ছাত্রলীগের বড় পদটি বাগিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার রাজনীতি। কিছু দিন পরে সুযোগের সৎ ব্যবহার করে জাতীয় পার্টির একটি অংশ থেকে পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সাথে জোট বেঁধে ২০১৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে যশোরের কেশবপুর থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেন। উক্ত নির্বাচনে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলা কারনে হাবিবুর রহমান হাবিব ওরফে শাহ্ হাবিব রহমানের নামে যশোর জেলার কেশবপুর থানায় বেশ কয়েকটি হত্যা মামলা হয়। যা এখনো চলমান রয়েছে। হাবিবুর রহমান হাবিব ওরফে শাহ্ হাবিব রহমানের ছেলে বর্তমানে যশোরের কেশবপুর উপজেলা ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয় ভাবে জড়িত। এ ছাড়া হাবিবুর রহমান হাবিব ওরফে শাহ্ হাবিব রহমান একাধিক মামলার ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামী বলেও জানা যায়। দীর্ঘদিন তিনি পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।
একাধিক বিশ্বস্থ সূত্র থেকে জানা যায়, পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে সংগঠিত ও শক্তিশালী করার জন্য এবং পুনরায় পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের কর্মীদেরকে প্রকাশ্য রাজনীতি করার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য প্রতিদিন মতিঝিল রাজউক ভবনের পার্শ্বে চায়ের গলিতে বসে বেশ কিছু আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সাথে এবং কিছু নামধারী সাংবাদিকদের নিয়ে মিটিং করে হাবিবুর রহমান হাবিব ওরফে শাহ্ হাবিব রহমান।
অন্য আরেকটি বিশ্বস্থ সূত্রে জানা যায়, অতি সম্প্রতি আগারগাঁও এলজিইডি’র প্রধান কার্যালয়ে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে জনতার হাতে গণদোলাইয়ের শিকার হয় কথিত সাংবাদিক হাবিবুর রহমান হাবিব ওরফে শাহ্ হাবিব রহমান।
অপরদিকে একটি পরিবারের নামে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তাদের কাছে মোটা অংকের টাকা দাবী করে। উক্ত পরিবারটি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে কথিত সাংবাদিক হাবিবুর রহমান হাবিব ওরফে শাহ্ হাবিব রহমানের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন।
আরেকটি বিশ্বস্থ সূত্রে জানা যায়, ভিন্ন ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে হাবিবুর রহমান হাবিব ওরফে শাহ্ হাবিব রহমান কিছু মেয়ে সাংবাদিকদের ব্যবহার করে বিভিন্ন লোকের সাথে ব্লাকমেইল করে তাদেরকে বিপদে ফেলে। এবং মেয়েদেরকে দিয়ে নারী নির্যাতন মামলার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করে থাকে।
এ ব্যাপারে হাবিবুর রহমান হাবিব ওরফে শাহ্ হাবিব রহমানের সাথে কয়েকদফা যোগাযোগ করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তার ব্যাবহৃত মোবাইল ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোন উত্তর দেননি।
পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোষর ও কথিত সাংবাদিক হাবিবুর রহমান হাবিব ওরফে শাহ্ হাবিব রহমানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে পেশাদার সাংবাদিক বৃন্দ।



